পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের ত্যাগ, সহমর্মিতা, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র উৎসবকে সামনে রেখে আমি উত্তরা ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৫১ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের নাগরিক—মুরব্বি, তরুণ সমাজ, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষসহ সকল ধর্ম-বর্ণের নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। ঈদের আনন্দ হোক সবার জন্য নিরাপদ, সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও শান্তিময়।
আজকের নগরজীবনে আমরা একদিকে আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, অন্যদিকে নানা সামাজিক সংকট আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উদ্বেগের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ, রাজনৈতিক পেশিশক্তির অপব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব—এসব এখন নগরবাসীর নিত্যদিনের চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের আশেপাশে অবাধে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি এবং প্রকাশ্যে ধূমপানের সংস্কৃতি আমাদের সন্তানদের জন্য ভয়ংকর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং নাগরিক সচেতনতা, বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ এবং সামাজিক ঐক্যের মাধ্যমেই এই সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান সম্ভব।
আমি মনে করি, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান নয়—প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, কাউন্সেলিং ব্যবস্থা ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি বৈজ্ঞানিক ও মানবিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। একইভাবে কিশোর অপরাধ দমনে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সামাজিক পেশাজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
আমি বিশ্বাস করি, আবাসিক এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সিটি করপোরেশনের অনুমোদন ছাড়া কোনো দোকানপাট বা বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠতে দেয়া উচিত নয়। একইসাথে প্রকাশ্য ধূমপান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং স্কুলের পাশে তামাকজাত দ্রব্যের দোকান বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নগর পরিকল্পনা হতে হবে জনবান্ধব, পরিবেশবান্ধব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা বিবেচনায়।
আগামী কুরবানির ঈদ থেকে পরিবেশ দূষণ রোধে নির্দিষ্ট স্থানে স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিকল্পিতভাবে কোরবানির ব্যবস্থা করা জরুরি বলে আমি মনে করি। এতে যেমন নগর পরিচ্ছন্ন থাকবে, তেমনি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে। একটি আধুনিক ও সচেতন নগরব্যবস্থা গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
রামিসা ধর্শনের মতো আলোচিত অপরাধগুলো আমাদের সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এসব ঘটনা প্রমাণ করে—শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলেই হবে না, বরং পরিবার, সমাজ ও নাগরিকদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন বা ভয় প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ করে মানবিক ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে একটি সভ্য সমাজের পরিচয়।
আমি যদি ৫১ নং ওয়ার্ডের জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাই, তাহলে অবৈধ দখলবাজদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত ব্যবস্থা গ্রহণ, মাদক ও ধূমপানবিরোধী নিয়মিত অভিযান, সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক পেশাজীবীদের সমন্বয়ে নাগরিক উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম গঠন এবং পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবো। আমি বিশ্বাস করি—একটি ওয়ার্ড তখনই উন্নত হয়, যখন সেখানে নাগরিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত হয়।
আসুন, এই ঈদে আমরা শুধু আনন্দ ভাগাভাগি না করে একটি সুন্দর, নিরাপদ, মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক নগর গঠনের শপথ গ্রহণ করি। ঐক্যবদ্ধ নাগরিক শক্তিই পারে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য শহর নিশ্চিত করতে।
সবার প্রতি আবারও পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন
৫১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা
সাবেক ছাত্র নেতা, University of Dhaka
অভিভাষণ বিষয়ক পরামর্শক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, Bureau of Social Watch
সাংগঠনিক সম্পাদক, Movement for Social Justice
ই-মেইল: anwar.neogen@gmail.com
সম্পাদক : মোঃ আলিমুজ্জামান
প্রকাশক : মোঃ রবিউল আলম রাজু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : উত্তরা,ঢাকা
,ইমেইল : doinikbisforon@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক বিস্ফোরণ. All rights reserved.