
খুলনা রূপসা প্রাক-নির্বাচনী আলোচনা সভা খুলনা | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত প্রাক-নির্বাচনী আলোচনা সভা গুলোতে জাতীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমান ও কার্যকর ভোটাধিকার প্রয়োগে বিদ্যমান কাঠামোগত, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে। এসব ঝুঁকি নিরসনে অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
প্রাক-নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে RUPSA (Rural & Urban Poor’s Partner for Social Advancement) ছয়টি বিভাগের ২৫টি সংসদীয় আসনে ধারাবাহিক অংশগ্রহণমূলক আলোচনো সভা আয়োজন করে। এতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, দলিত সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, চা-শ্রমিক, লিঙ্গ-বৈচিত্র্যময় ভোটার এবং সংখ্যালঘু নারীসহ পাঁচ শতাধিক অংশগ্রহণকারী যুক্ত হন। আলোচনা সভায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি উঠে আসে।
রূপসার মুখপাত্র হিরন্ময় মণ্ডল বলেন, “বিভিন্ন সম্প্রদায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ভোট কেনাবেচার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে উঠে এসেছে, যা প্রায়ই নিয়োগকর্তা, এস্টেট ব্যবস্থাপনা কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার সঙ্গে যুক্ত।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অনুশীলন ভোটারদের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও ব্যালটের গোপনীয়তাকে ক্ষুন্ন করে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে।”
আলোচনা সভায় ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ভূমি-সংক্রান্ত রাজনৈতিক চাপ, দলিত ভোটারদের প্রতি জাতভিত্তিক বৈষম্য, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিশোধের আশঙ্কা এবং লিঙ্গ-বৈচিত্র্যময় ভোটারদের জন্য পরিচয়পত্রের অসামঞ্জস্য ও ভোটকেন্দ্রে গোপনীয়তার অভাবের মতো কাঠামোগত বাধা চিহ্নিত হয়েছে। সংখ্যালঘু নারীরা একাধিক মাত্রার প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে চলাচলের সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতার অভাব এবং হয়রানির আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া সংখ্যালঘু ও নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠির ভাষায় ভোটার শিক্ষার সীমিত সুযোগ, নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার বিষয়ে কম সচেতনতার বিষয়টি উঠে আসে। এর ফলে অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে এবং ভুল তথ্য ও প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াকেও সমস্যাযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, বিশেষত বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি, ভূমিহীন জনগোষ্ঠী, চা-শ্রমিক এবং লিঙ্গ-বৈচিত্র্যময় ভোটারদের ক্ষেত্রে, যা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি করেছে।
রূপসার নির্বাহী পরিচালক হিরন্ময় মণ্ডল বলেন, “আমাদের পর্যবেক্ষণে সংখ্যালঘু-সংবেদনশীল আসনগুলোতে নির্বাচনী অন্তর্ভুক্তি ও সমতার ক্ষেত্রে ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে।” এ প্রেক্ষাপটে তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে বৈষম্য প্রতিরোধে বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, ভোটার তথ্যের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার দৃশ্যমানতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত থাকার এবং শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু ভোটারদের অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণই একটি বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি।”
রূপসা ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে দলিত, ধর্মীয়, জাতিগত ও জাতীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন কি না তা মূল্যায়ন করা যায়। এ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ছয়টি বিভাগের ২৫টি সংসদীয় আসনজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে প্রাক-নির্বাচনী কার্যক্রম, নির্বাচন দিবস পর্যবেক্ষণ ও নির্বাচন-পরবর্তী গুণগত মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পর্যবেক্ষকেরা কঠোর আচরণবিধি অনুসরণ করে স্বাধীন ও নির্দলীয়ভাবে কাজ করছেন। প্রাক-নির্বাচনী আলোচনা সভাগুলোর ফলাফল রুপসার ঝুঁকিভিত্তিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমকে নির্দেশনা দিচ্ছে এবং নির্বাচন-পরবর্তী চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সুপারিশসহ উপস্থাপন করা হবে।
Leave a Reply