
সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে হলুদ সাংবাদিকতা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ে জড়িয়ে পড়া একটি অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্যে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চরম আতঙ্কে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি ভয়ভীতি, মানহানি ও অর্থ আদায়ের পেশায় নেমেছে।
এতে পেশাদার সাংবাদিকতা যেমন কলঙ্কিত হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্র ও সমাজের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো কোনো ব্যক্তি অননুমোদিত অনলাইন পোর্টাল, নামসর্বস্ব পত্রিকা কিংবা ভুয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। প্রথমে গোপনে ছবি, ভিডিও বা তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে ‘সংবাদ প্রকাশ’ দেখিয়ে শুরু হয় দরকষাকষি।
দাবি পূরণ না হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে।
একাধিক সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এসব তথাকথিত সাংবাদিক নিয়মিত দপ্তরে হাজির হয়ে অযৌক্তিক প্রশ্ন, হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করে।
অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে ব্ল্যাকমেইলের পথ বেছে নেওয়া হয়। ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ আরও ভয়াবহ।
উদ্যোক্তারা বলছেন, ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের সামান্য ত্রুটিকে ‘মহাদুর্নীতি’ আখ্যা দিয়ে ভয় দেখানো হয়। উদ্দেশ্য একটাই,অবৈধ সুবিধা আদায়।
এদিকে প্রকৃত সাংবাদিকদের মতে, হলুদ সাংবাদিক ও ব্ল্যাকমেলারদের কারণে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাংবাদিকতার নীতি, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব পদদলিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, ভুয়া সাংবাদিক ও অনিবন্ধিত গণমাধ্যমের লাগাম টানতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সাংবাদিক পরিচয় যাচাই, অনলাইন মিডিয়ার নিবন্ধন ও আইন প্রয়োগে কঠোরতা না বাড়ালে এই অপতৎপরতা আরও বিস্তৃত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হলুদ সাংবাদিকতা ও ব্ল্যাকমেইলিং বন্ধে প্রশাসন, গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া বিকল্প নেই।
অন্যথায় পেশাদার সাংবাদিকতা হারিয়ে যাবে অন্ধকারে।
Leave a Reply