
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, যা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, নগরকান্দা থানার ফুলসুতী গ্রামের খন্দকার আব্দুল গনি বাদশার মেয়ে সেলিনা খন্দকার তার ওয়ারিস সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি সংক্রান্ত দলিলে ভাই শামিম খন্দকারের স্বাক্ষর নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়ান। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শামিম খন্দকার তার বোন সেলিনা খন্দকার এবং তার মেয়ে, পেশায় সাংবাদিক মাহমুদা আক্তার পুষনকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মাহমুদা আক্তার পুষন দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করে আসছিলেন তার মামা শামিম খন্দকার। সম্প্রতি হঠাৎ করেই ওই সম্পত্তির ওপর নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন তিনি।
ভুক্তভোগী সেলিনা খন্দকার বলেন, “আজ তিনি আমাকে ও আমার মেয়েকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এর আগেও একই ঘটনায় আমার স্বামীর ওপর শারীরিকভাবে হামলা চালান। পরে থানায় অভিযোগ করতে গেলে তিনি ক্ষমা চেয়ে অভিযোগ না করতে অনুরোধ করেন।”
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শামিম খন্দকার পূর্বেও বিভিন্ন সময় আত্মীয়-স্বজনের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তার ছোট ভাই নাইম খন্দকারের স্ত্রী সেলিনা বেগম বলেন, “সম্পত্তির বিরোধে তিনি আমার স্বামীকে মারধর করেন এবং আমাকে আঘাত করেন। এতে আমার চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং অস্ত্রোপচার করতে হয়। এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অনেকেই রয়েছেন।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, অতীতে শামিম খন্দকার বিদেশে অবস্থানকালে একটি বিতর্কিত সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে এলাকাবাসীর মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ মেলেনি।
অভিযুক্ত শামিম খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করলেও কোনো বক্তব্য দেননি, এমনকি একাধিকবার কল কেটে দেন।
এ ঘটনায় নগরকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১৮৯) দায়ের করা হয়েছে। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খলিলুর রহমান বলেন, “আমরা অভিযোগটি গ্রহণ করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়রা।
Leave a Reply