
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার বেথুড়ী ইউনিয়নের বিদ্যাধর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জগদীশ ভৌমিকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের অভিযোগ—তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত না থেকে রেজিস্ট্রেশন খাতায় স্বাক্ষর করে দায়সারা হাজিরা দিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শিক্ষক জগদীশ ভৌমিকের নিজ বাড়ি বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও তাকে বেশিরভাগ সময় স্কুলে পাওয়া যায় না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঠিকমতো ক্লাস নেন না এবং অনেক সময় শুধু হাজিরা দিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এতে করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে শিক্ষক জগদীশ ভৌমিক অধিকাংশ সময় জমি-সংক্রান্ত কাজ ও ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যস্ত থাকেন। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জাল দলিলসহ বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের জমি ও বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে তিনি পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন। এসব ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এই প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে নিজ জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলি করা হলে বিদ্যালয়ে পাঠদানের পরিবেশ উন্নত হবে এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, অন্য জেলা থেকে দক্ষ ও নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply