
গোপালগঞ্জ সদর থানার নিজড়া ইউনিয়নের বটবাড়ী গ্রামের আলোচিত মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতা মন্টু মল্লিক (৬০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি চাঁন মল্লিকের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ দমন অধ্যাদেশ আইন ২০২৬ এর ৬, ৭, ৮ ও ২২ ধারায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে গোপালগঞ্জ সদর থানার চৌকস পুলিশ অফিসার, এসআই নাগির সাকিল,ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তাকে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
মামলার বাদী লালচাঁন খন্দকার অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে মন্টু মল্লিক ও তার সহযোগীরা সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তার ছোট ভাই রমজান আলী খন্দকারকে বিদেশে পাঠায়। কিন্তু বিদেশে নেওয়ার পর তাকে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
বর্তমানে রমজান আলী খন্দকার সৌদি আরবের একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে পরিবার দাবি করেছে। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মামলার অন্যান্য আসামিরা
এই মানব পাচার চক্রে আরও যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন—
১⃣ ডালিম মল্লিক (৩৫)
২⃣ নাজমুল মল্লিক (৩২)
৩⃣ নদী বেগম (২৬)
৪⃣ রোমেচা বেগম (৫০)
৫⃣ হালিমা বেগম
তাদের সবার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার নিজড়া ইউনিয়নের বটবাড়ী গ্রামে। মামলার স্মারক নম্বর ১৪৭।
এলাকাবাসীর অভিযোগ
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি বিদেশে লোক পাঠানোর নামে মানব পাচার করে আসছে। গ্রামবাসী একাধিকবার সালিশ-বিচারের মাধ্যমে মন্টু মল্লিককে অনুরোধ করলেও তিনি কোনো ধরনের কর্ণপাত করেননি। টাকার প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মায়ের আহাজারি
ভুক্তভোগী রমজান আলী খন্দকারের মা তার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। একমাত্র সন্তানের মুক্তির আশায় তিনি এখন পথেঘাটে কাঁদছেন বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং মানব পাচার চক্রের অন্য সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply