
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কলসি ফুকরা এলাকায় ২৩ মাস বয়সী এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবার দাবি করেছে, এটি পানিতে ডুবে মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে থানায় গেলেও মামলা না হওয়ায় তারা আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নিহত শিশুর নাম সাহারা ইসলাম (ছারা) (২৩ মাস)। তিনি মো. সাগর খাঁকি ও মুক্তা বেগম দম্পতির বড় সন্তান। পরিবারের অপর সন্তান মাত্র ৬ মাস বয়সী একটি ছেলে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট ২০২৬ নিজ বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন শিশুটির মা। এ সময় ছারা তার চাচা-চাচির কাছে ছিল। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির পাশে বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তবে মৃত্যুর পর শিশুটির শরীরে, বিশেষ করে নাভি থেকে বুক পর্যন্ত পোড়ার মতো দাগ দেখতে পাওয়ার দাবি করেন তার মা। পরিবারের অভিযোগ, এসব দাগ দেখে তাদের সন্দেহ হয় যে শিশুটিকে হত্যার পর পানিতে ফেলে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, তার আসার আগেই স্থানীয় কিছু লোক শিশুটিকে গোসল করিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নেয়। পরে তিনি শরীরে দাগ দেখতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন। এমনকি মামলা করলে তার বিরুদ্ধে “গ্রাম্য ব্যবস্থা” নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবার আরও জানায়, বিষয়টি নিয়ে তারা কাশিয়ানী থানায় গেলে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চাচা-চাচি বা স্থানীয়দের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কাশিয়ানী থানার বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।
Leave a Reply