
মামুন মোল্লা
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) রাতের আঁধারে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত মেলামেশা ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য সুসংহত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং নিয়মিত প্রক্টরিয়াল টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও অসামাজিক পরিবেশ
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতের বেলা নির্জনতার সুযোগ নিয়ে ক্যাম্পাসের লেকপাড়, কফি হাউস, মন্দির সংলগ্ন এলাকা এবং কেন্দ্রীয় মাঠের বসার বেঞ্চসহ বিভিন্ন স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়। রাতে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে আসায় বহিরাগত ও অসচেতন তরুণ-তরুণীরা এসে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিনষ্ট করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন আরিফ বলেন, “প্রেম-ভালোবাসা বা সম্পর্কের বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও তা যখন অসামাজিক বা অনৈতিক রূপ নেয়, তখন তা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু দেখায়। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে অসংগতিপূর্ণ নানা ঘটনা চোখে পড়ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ও সুশাসন বজায় রাখতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”
একই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারজাহান আক্তার শিমু বলেন, “ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনায়াস প্রবেশ ও অবাধ চলাচলের কারণেই পরিবেশ বেশি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা টহল বাড়াতে হবে।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও কঠোর বার্তা
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে কথা বললে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আহসান সৌরভ জানান, ক্যাম্পাসে অসামাজিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রক্টর বলেন, “নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী বা বহিরাগতকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডিকে অভিহিত করতে বলা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ক্যাম্পাসের সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে প্রক্টরিয়াল টিম টহল পরিচালনা করছে। ইতিপূর্বেও অপ্রীতিকর অবস্থায় পাওয়া একাধিক যুগলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানদের জানানো হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply