
মামুন মোল্লা:
সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সারাদেশে সাংবাদিকদের একটি অংশ নানা ধরনের বাধা, হুমকি, লাঞ্ছনা, অপমান ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে প্রভাবশালী মহলের চাপ, ভয়ভীতি এবং নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সাংবাদিকরা জানান, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের হুমকি দেন। কোথাও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা, কোথাও সংবাদ প্রত্যাহারের চাপ, আবার কোথাও সরাসরি অপমান-অপদস্ত করার অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় অনেক সাংবাদিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।
সাংবাদিকতা পেশার মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও অসংগতির বিষয় জনসম্মুখে আনা এবং মানুষের অধিকার ও স্বার্থের পক্ষে কথা বলা। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা যদি হুমকি, হামলা, হয়রানি কিংবা অপমানের শিকার হন, তাহলে তা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আঘাত নয়—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কোনো সংবাদে ভুল বা অসত্য তথ্য থাকলে তার প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত পথ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রতিবাদলিপি পাঠানো, তথ্য-প্রমাণ দিয়ে ভুল সংশোধনের দাবি জানানো কিংবা প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে ভয় দেখানো, লাঞ্ছিত করা বা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদেরও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া জরুরি। বস্তুনিষ্ঠতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, গণমাধ্যম মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সাংবাদিকদের দাবি, সংবাদ প্রকাশের কারণে হুমকি, লাঞ্ছনা বা হয়রানির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
Leave a Reply