
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দালাল ও অফিসের কিছু কর্মচারীর মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে নিয়মিত সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে একাধিক ভুক্তভোগী গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও সরেজমিন অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে জানা যায়, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ, উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পাল ও সহকারী হিসাবরক্ষক বাপ্পু মিত্রকে ঘিরে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অফিসের ভেতরে-বাইরে থাকা দালালদের মাধ্যমে সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গিয়ে অনেক সেবাপ্রত্যাশীর কাগজপত্রে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন ফেরত দেওয়া হয়। পরে দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সেই কাজ সহজে করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কাগজপত্রের ত্রুটির ধরন অনুযায়ী দেড় হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়া ভুক্তভোগী করুনা রানী বিশ্বাস বলেন, তার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়ে সিমলা রানী বিশ্বাসের পাসপোর্ট করতে গিয়ে তাকে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হয়েছে। কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার ও নানা ভোগান্তির কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ঘুষ দিয়ে আবেদন জমা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অফিসের বাইরের এক দালাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, পাসপোর্টের কাজের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বড় একটি অংশ অফিসের সংশ্লিষ্টদের দিতে হয়। তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে অফিসে প্রবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তারা।
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ বলেন, তার অজান্তে ছোটখাটো ভুলত্রুটি ও টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তার অফিসে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, পাসপোর্ট অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, সরকারি নিয়মে পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে হলে দালালনির্ভরতা বন্ধ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
Leave a Reply